“বিশ্ব নারী দিবস ও অনন্তকালের বঞ্চনা” সুলেখা আক্তার শান্তা

author
1 minute, 18 seconds Read

নারীর রক্ত মাংস মজ্জায় লালিত ভ্রুণে উদ্ভূত মানব সমাজে অনন্ত কাল ধরে নারী হয়ে আছে মর্যাদাহীন নিগৃহীত এক মানব গোষ্ঠী। পৃথিবী এগিয়ে গেলেও নারী আজও চরম নিগ্রহের শিকার। নির্বিচারে পিষ্ট হচ্ছে পুরুষতন্ত্রের নিষ্পেষণে। একবিংশ শতাব্দীতে আজকের নারী দিবসে সেই একই ভাষায় কথা বলতে হচ্ছে দুর্ভাগ্যক্রমে। পুরুষশাসিত সমাজে নারীরা শুধুই তাদের আজ্ঞাবহ। কন্যা-জায়া-জননী সর্ব রূপে নারী আজও অসহায়। জন্মের আগেই নারীর জীবন জড়িয়ে পরে বিড়াম্বনায়। মাতৃগর্ভে করা হয় অনাগত সন্তানের লিঙ্গ নির্ধারণ। গর্ভের সন্তান কন্যা হলে মায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করা হয় ভ্রুণ হত্যা। পৃথিবীর বহু দেশে ভয়াবহ কাণ্ডটি সংঘটিত হচ্ছে। বিশ্বে নারী পুরুষের ভারসাম্য আজ ভয়াবহ হুমকির মুখে। নারী-জীবনের সীমাহীন আতঙ্কের নাম অনার কিলিং বা পারিবারিক মর্যাদা রক্ষার জন্য হত্যা। নারী যেন পারিবারিক সম্পত্তি। প্রেম-ভালোবাসা বিয়ে সবকিছুতে রাখতে হবে সম্পত্তির মর্যাদা। চরম পরিণতি ভোগ করতে হয় কোন প্ররোচনা বা পরিস্থিতির শিকার হাওয়া নারীকে। ভয়াবহ হয়ে ওঠে পরিবারের নিরাপদ আশ্রয়ের স্থানটি। পিতা-ভ্রাতার নিষ্ঠুর নির্যাতনেই জীবন দিতে হয় নারীকে।

 

আজ উন্নত অনুন্নত নির্বিশেষে বিশ্বময় নারী-পুরুষের বেতন বৈষম্য দৃশ্যমান। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) এক প্রতিবেদনে নারী পুরুষের মজুরি সমতা সৃষ্টি হতে ২১৩৩ সাল পর্যন্ত লেগে যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ আরো ১০০ বছর বছরের বেশি সময় পর কোন অগ্রগতি দৃষ্টিগোচর হতে পারে। মানসিকতা পরিবর্তনের ধীরগতি পরিমাপ করেই বোধহয় সময়টি নির্ধারণ করা হয়েছে। আশ্রয়হীন হবার ভয় যুগযুগান্তর ধরে নারীকে মুখ বুঝে নিষ্ঠুর নির্যাতন সহ্য করতে বাধ্য করেছে। রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে দৃঢ় প্রতিকারের ব্যবস্থা সম্ভব হলে নারী নারীর জীবন নিরাপদ ও স্থিতিশীল হতে পারে। খুন ধর্ষণের অসংখ্য ঘটনা প্রতিদিন পত্রপত্রিকা মিডিয়াতে প্রকাশিত হয়। প্রাত্যহিক সংবাদের স্তুপে পুরনো সংবাদ হারিয়ে যায়। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ইত্যাদির অবহেলায় অনেক ঘটনা আইন-আদালতের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে না। পৌঁছালেও দীর্ঘসূত্রিতার হতাশায় হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়।

 

নারীদের যথার্থ মর্যাদা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অর্থনৈতিক, সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন অর্জনের লক্ষ্যে নারী শিক্ষার বিস্তার, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর ক্ষমতায়নসহ নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা প্রতিরোধে ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা জরুরি। বিশ্ব জনসংখ্যার অর্ধেক নারী হলেও তারা তাদের অধিকার বুঝে নিতে ব্যর্থ। একটি সুখী, সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ার কাজে পুরুষের মতো সমান অবদান রাখতে হলে নারীদেরই সচেতন ভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

 

 

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *