
মা মরা মেয়ে মীনা। তার মুখের দিকে তাকালে অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে। তার বাবা আবিদ প্রায়ই ভাবেন, যদি মীনার মা বেঁচে থাকতেন, তাহলে মীনা তার মায়ের স্নেহ পেত। আবিদের শরীর তেমন ভালো থাকে না, তবুও তিনি মেয়েকে যত্ন করে ভাত মাখিয়ে খাওয়ান। একদিন মীনা ভাত খেতে খেতে বলে, “বাবা, আমি স্কুলে যাব।” আবিদ অবাক হয়ে বলেন, “ওরে বাবা, আমার মেয়ে স্কুলে যাবে! ঠিক আছে মা, তুমি স্কুলে যাবে।”
আবিদ মেয়েকে স্কুলে ভর্তি করান এবং তাকে বলে, “মা, স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কারো সাথে দুষ্টামি করবা না। সময়মতো স্কুলে আসবা এবং ছুটি হলে বাড়ি ফিরে যাবা।” মীনা বাবার কথা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।
আবিদের ছোট্ট একটি চায়ের দোকান আছে, কিন্তু তার শরীর খারাপ থাকায় তিনি প্রায়ই দোকানে বসতে পারেন না। মীনা বাবার কাছে আবদার করে, “বাবা, আমাকে একটা স্কুল ড্রেস বানিয়ে দাও। সবাই স্কুল ড্রেস পরে যায়, আমি না পরলে ভালো দেখায় না।” আবিদ মেয়েকে আশ্বাস দেন, “ঠিক আছে মা, কয়েকটা দিন ধৈর্য ধরো। আমি তোমাকে স্কুল ড্রেস বানিয়ে দেব।”
কয়েকদিন পর আবিদ মেয়ের জন্য স্কুল ড্রেস, জুতা এবং মোজাে এনে দেন। মীনা তা পরে, তাকে খুব সুন্দর লাগে। বাবা বলেন, মাশাল্লাহ! মীনা এখন থেকে নিয়মিত স্কুল ড্রেস পরে স্কুলে যাবে।
স্কুলে মীনার সহপাঠীরা টিফিনে অনেক কিছু কিনে খায়, কিন্তু মীনা খায় না। তার কাছে টাকা নেই। দীপা, সাবিনা, এনি, রিতা তাকে জিজ্ঞেস করে, “মীনা, তুই কিছু খাবি না?” মীনা বুদ্ধি খাটিয়ে বলে, “না, আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।”

মীনা পড়ালেখায় মনোযোগী। তার ছোট চাওয়াগুলো বাবার ভালোবাসা সব অপূর্ণ চাওয়াকে তুচ্ছ করে দেয়।
একদিন দীপা তার বাড়িতে বান্ধবীদের দাওয়াত করে। মীনাও দাওয়াত পায়, কিন্তু তার অন্য পোশাক না থাকায় সে যেতে চায় না। দীপা তাকে জোর করে নিয়ে যায়। সে স্কুল ড্রেস পরে যায় কিন্তু দীপা এবং অন্য বান্ধবীরা মীনাকে দেখে তার স্কুল ড্রেস নিয়ে হাসাহাসি করে এবং তার ড্রেস ছিঁড়ে দেয়। মীনা কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং অসুস্থ হয়ে পড়ে।
মীনা স্বপ্ন দেখে, সে সুন্দর একটি স্কুল ড্রেস পরে ফুলের বাগানে ঘুরছে। তার বাবা তাকে নতুন স্কুল ড্রেস এবং কয়েকটি জামা কিনে দেন। মীনা স্বপ্নের মাঝে বলে, আমার নতুন জামা, আমার নতুন জামা। বাবার তা দেখে খারাপ লাগে। কিন্তু সে তার কয়েকদিন পর মেয়েকে নতুন ড্রেস বানিয়ে দেন। মীনা খুশি হয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে এবং পড়ালেখায় মনোযোগী হয়ে ওঠে। তার লক্ষ্য বড় কিছু হওয়া এবং সে সেই লক্ষ্য পূরণের জন্য পড়ালেখা করে। সে বড় কিছু হতে চায়। তাই সে পড়ালেখার মাঝেই ডুবে থাকে সব সময়।
