oplus_32

“প্রস্থানের চাবি”

author
2 minutes, 48 seconds Read

“উচ্চ স্বচ্ছলতায় জীবন চালাতে পারবো না,” “কিন্তু যেভাবে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে জীবন যাপন করি, বুক ফুলিয়ে চলি। সেলিম বলে, অসৎ হলে এভাবে জীবন চালাতে পারবো না, বুঝলে মিলি?” স্ত্রী মিলি শান্ত গলায় উত্তর দেয়, “তুমি দেখো না, অসৎ যারা তারাই সমাজে উচ্চভাবে চলে। সৎ মানুষের জীবন যায় ধুকে ধুকে। কিন্তু আমি চাই, আমার স্বামী সৎ থাকুক। কারণ সেটা আমার গর্বের বিষয়—তুমি সৎ উপার্জনে রোজগার করো।” সে আরও বলল, “আমাকে নিয়ে তুমি ভাববে না। আমি টাকা-পয়সা, অলংকার, কাপড়-চোপড় চাই না। একটা মানুষ বেঁচে থাকার জন্য দৈনন্দিন জীবনে যেটুকু লাগে, সেটুকুই যথেষ্ট।” সেলিম মৃদু হাসে, “আমি জানি, আমার বউ আমার মতোই। তার কোনো বাড়তি চাহিদা নেই।” মিলি ছেলে মেয়েকেও এই আদর্শে বড় করতে চায়। সে বলে, “তারা যেন সৎভাবে জীবন যাপন করে। তাতে একটু কষ্ট হবে, তাও ভালো।”
মিলি পিঠা বানিয়ে টেবিলে রাখে। ছোট ছেলে-মেয়ে, স্বামী—সবাই একসাথে টেবিলে বসে। মিলি বলল, “তোমরা বসো, আমি এই পিঠাগুলো ম্যানেজারের বাসায় দিয়ে আসি।” সেলিম বলল, “ঠিক আছে যাও, তবে গিয়ে গল্প করতে বসো না—তাড়াতাড়ি ফিরে এসো।” মিলি হেসে বলল, “আরে আমি কি গল্প করতে বসি নাকি? খালাম্মাই তো আমাকে পেলে গল্পে বসে যান! দেখো না, আমার বাসায় এসেও কত গল্প করেন।” সে একটু থেমে বলল, “খালাম্মা বলেন, আমার কাছে কথা বলে শান্তি পান, মনের কথা সব খুলে বলতে পারেন।” সেলিম হেসে বলল, “তুমি তো তার কথা শোনার দশক! তুমি যদি শুনে শান্তি পাও, আর উনিও যদি বলে শান্তি পান—তাহলে তোমরা বলো এবং শুনো। এতে কারো ক্ষতি নেই, বরং মনটা হালকা হয়।”
মিলি পিঠার প্লেট হাতে নিয়ে বেরিয়ে যায়, কিন্তু অনেকক্ষণ কেটে গেলেও সে ফিরে আসে না। এদিকে সেলিম, ছেলে-মেয়ে—পিঠার সামনে বসে আছে , কিন্তু কেউ খাচ্ছে না। সেলিম ছেলে মেয়েকে বলল, “তোমরা খাও, মা তো গেছে খালাম্মার বাসায়। গল্প শেষ হলে আসবে।”
ছেলে-মেয়ে একসাথে বলে, “না, মা আসলে খাব।”
সেলিম একটু বিরক্ত হয়ে বলল, “তোমার মা তো গল্প করতে বসেছে, খালাম্মার কাছে গেলে তো আর সহজে ছাড়া পায় না!” অবশেষে মিলি ফিরে আসে। দরজা খুলেই বলে, “আহা, তোমাদের বসিয়ে রেখেছি! আর বোলো না, খালাম্মা ছাড়তেই চায় না। তার এ কথা, ও কথা, কত কিছু!” সেলিম হেসে বলল, দাও, দাও ছেলে-মেয়েকে পিঠা দাও। মিলি পিঠার প্লেট রেখে, “নাও, এখন শুরু করো। সবাই মিলে খাই।”
বাড়ির ম্যানেজার জাহানারা যখনই কোনো প্রয়োজনে পড়েন, চলে আসেন মিলির কাছে। সেদিনও দরজায় নক পড়ে। মিলি দরজা খোলে। জাহানারা হাপাতে হাপাতে বলেন, “মা, তোমার কাছে দুই হাজার টাকা হবে?” মিলি ম্যানেজার জাহানারাকে টাকা দিয়ে বলল, “ঠিক আছে খালাম্মা, আপনি আপনার প্রয়োজন সারুন।”
সেলিম একটু পরে জানতে চাইল, “কী জন্য ম্যানেজার এসেছিল?”
মিলি বলল, “ওই টাকার দরকারে। উনি তো দেখছি, যা লাগে তার জন্যই আমার কাছে আসেন।”
oplus_32
সেলিম একটু চিন্তিত হয়ে বলল, “মানুষ তো যার কাছে পায়, তার কাছেই যায়—এই কথাটা ঠিক। কিন্তু দেখো মিলি, অতিরিক্ত সম্পর্ক ভালো না। যারা সব সময় নিয়ে অভ্যস্ত হয়ে যায়, তারা একসময় না পেলে শত্রুতে পরিণত হয়!” সে আরও বলল, “তারা দেখবে না তোমার কাছে আছে কিনা, শুধু চাইবে। কারণ ‘পাওয়া’টাই তাদের অভ্যাস হয়ে যায়।” মিলি বলল, “না, তুমি এটা নিয়ে ভেবো না। খালাম্মা ওই ধরনের মানুষ না।” সেলিম মাথা নাড়ল, “ঠিক আছে, ভালো হলেই ভালো।”
সেলিমের অফিসের কাজে প্রায়ই ঢাকার বাইরে যেতে হয়। ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। তখন কলাপসিবল গেটে তালা থাকে। সেই তালার চাবি ম্যানেজার বিশেষ প্রয়োজনে কিছু নির্ভরযোগ্য বাসিন্দাকে দিয়ে থাকেন। সেলিম একদিন বলল, “মিলি, তুমি খালাম্মাকে বলে একটা চাবি নিয়ে নিও। উনি তো মুরুব্বি মানুষ, এত রাতে ডাকা ঠিক হবে না।”
মিলি মাথা নাড়ল, “ঠিক আছে, আমি বলে একটা চাবি নিয়ে আসি।” সে যায় ম্যানেজার জাহানারার কাছে। মিলি বলল, “খালাম্মা,” “সেলিম প্রায়ই রাত করে আসে। তখন গেটে তালা থাকে। আপনাকে এত রাতে বারবার ডাকলে বিরক্ত হবেন? যদি পারেন, আমাকে একটা চাবি দিন।” জাহানারা একটু ভেবে বললেন, “ঠিক আছে মা, এই নাও চাবি। কিন্তু দেখো, হারায় না যেন! চাবি হারালে আবার বানাতে হয়, বাড়িওয়ালা তো বাড়তি খরচ করতে চায় না।” মিলি শান্ত গলায় বলল, “ঠিক আছে খালাম্মা, যদি হারিয়ে যায়, আমি নিজেই খরচ দিয়ে নতুন চাবি বানিয়ে দেব।” চাবি হাতে নিয়ে মিলি ফিরে আসে। তার মুখে ছিল দায়িত্বের অনুভব, আর মনে ছিল স্বামীর নিরাপত্তার নিশ্চয়তা। রাতে যার চাবি লাগে, ম্যানেজার জাহানারা বলেন, “দোতলার ফ্ল্যাটে চাবি আছে, তাদের বলো গেট খুলে দিতে।” কিন্তু যারেই চাবি দরকার হয়, তারা এসে সেলিমের বাসায় নক করে। বারবার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে সেলিম বিরক্ত হয়ে ওঠে। “একি অবস্থা!” সেলিম বলল, “চাবির জন্য সবাই আমার বাসায় এসে দরজায় ধাক্কা দেয়। মিলি, তুমি এই বিষয়টা ম্যানেজারের সঙ্গে আলাপ করো। গেট খুলে দেওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব না। ছোট ছোট বাচ্চা আছে, ঘুম থেকে উঠে যায়। কম-বেশি অনেকেরই তো চাবি আছে, কিন্তু সবাই শুধু আমাদের কাছেই আসে!” মিলি শান্তভাবে বলে, “আচ্ছা, তুমি থামো। আমি দেখি বিষেয়টা।”
কিছুক্ষণ পর জাহানারা এসে “মা, তোমার কাছে এক হাজার টাকা আছে?” মিলি বলল, “না খালাম্মা, আমার কাছে এখন টাকা নেই। আর আপনার ছেলে তো বাসায় নেই। থাকলে হয়তো তার কাছ থেকে নেওয়া যেত।” জাহানারা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “কী করব বলো বউ? সবার কাছে তো যাওয়া যায় না। আমার কিছু লাগলে তোমার কাছেই চাইতাম, আর তুমি দিতেও। তুমি ছাড়া আর কারো কাছে কিছু চাই না।” তিনি একটু থেমে আবার বললেন, “তবুও দেখো বৌমা, আছে কিনা টাকা!” মিলি দৃঢ়ভাবে বলল, “না খালাম্মা, আমার কাছে এখন সত্যিই কোনো টাকা নেই।” জাহানারা মুখ মলিন করে ফিরে গেলেন। মিলি দরজা বন্ধ করল।
মিলির পাশের ফ্ল্যাটে নতুন ভাড়াটিয়া এসেছে। তাদের গেটের রাতের চাবি দরকার। জাহানারা তাদের সঙ্গে নিয়ে এসে মিলির দরজায় দাঁড়ালেন। “মা, গেটের চাবিটা দাও তো,” বললেন জাহানারা। মিলি চাবির ছড়া থেকে চাবি খুলে এগিয়ে দিলো, “নিন খালাম্মা।” জাহানারা চাবি হাতে নিয়ে বললেন, “শোনো মিলি, আজ থেকে এই চাবিটা উনার কাছেই থাকবে।” পাশে দাঁড়ানো ভাড়াটিয়াকে দেখিয়ে বললেন, উনাদের দরকার পড়বে।” মিলি থমকে গেল! অবাক হয়ে বলল, “খালাম্মা, আমার স্বামী তো প্রায়ই অনেক রাতে বাসায় ফেরে। তখন আমি কী করবো?” জাহানারা মুখ শক্ত করে বললেন, “এত রাতে তোমার স্বামীর কিসের অফিস?” মিলি শান্ত গলায় উত্তর দিল, “খালাম্মা, ওর তো অফিসের কাজে ঢাকার বাইরে যেতে হয়। তাই ফিরতে দেরি হয়। আপনি তো জানেন।” জাহানারা মুখ ফিরিয়ে বললেন, “তোমার চাবি লাগলে পাশ থেকেই নিয়ে নিও।” মিলি চুপ করে দাঁড়িয়ে রইলো। তার চোখে ছিল একরাশ অভিমান, কিন্তু মুখে কোনো অভিযোগ নেই। সে শুধু ভাবল—একটা চাবি, একটা ছোট সিদ্ধান্ত, কত বড় প্রভাব ফেলতে পারে একজনের জীবনে! মিলি বলল, “খালাম্মা, আমার স্বামী প্রায়ই অফিসের কাজে বাইরে থাকে। ফিরতে অনেক রাত হয়। আপনি তো মুরুব্বি মানুষ, এত রাতে আপনাকে ডাকাটা ঠিক নয়! তাই চাবিটা আমার কাছে থাকলে সুবিধা হয়।” জাহানারা বললেন, “তোমার চাবি লাগলে পাশের ফ্ল্যাট থেকে নিয়ে নিও।” মিলি একটু থেমে বলল, “আপনি বরং তাদের বলেন, এই চাবি দিয়ে একটা বানিয়ে নিক। তাহলে সবারই সুবিধা হবে।” জাহানারা রুক্ষ গলায় বললেন, “না, বানানোর দরকার নেই। সকালে তো গেট খুলেই দেওয়া হয়। হঠাৎ রাতে এক-দুই দিন লাগলে ওদের কাছ থেকে নিয়ে নিও।”
মিলি এবার দৃঢ়ভাবে বলল, “খালাম্মা, আমার স্বামী রাত্রে বাইরে থাকলেও আমি পাশের ফ্ল্যাট থেকে চাবি নেব না! আপনি যখন আমার কাছ থেকে চাবি নিয়ে তাদের হাতে তুলে দিলেন, তখন আমার দরকার নেই। আমি চাই না, রাতবিরাতে কাউকে নক করতে! তারা ঘুমিয়ে থাকতে পারে, আর সেই ঘুম আমার জন্য বিঘ্নিত হোক—আমি সেটা চাই না।” তার কণ্ঠে ছিল না কোনো উচ্চস্বরে প্রতিবাদ, কিন্তু ছিল একরাশ আত্মসম্মান আর স্পষ্ট অবস্থান।
মিলি বলল, “আমার স্বামী বাইরে থাকে, থাকবে। অফিসের কাজে তো প্রায়ই রাত করে ফেরে।” জাহানারা মুখ শক্ত করে ধমক দিয়ে বললেন, “তুমি তো আমার সঙ্গে রাগ দেখালে! রাগ করছো কেন আমার সঙ্গে?” মিলি মাথা নিচু করে বলল, “না খালাম্মা, আমি আপনার সঙ্গে রাগ দেখাইনি। আমি কেন রাগ করবো? আমি শুধু বলেছি—চাবিটা আপনি যেহেতু উনাদের দিয়েছেন, থাক উনাদের কাছেই। আমার দরকার নেই।” জাহানারা পাশের ভাড়াটিয়াদের দিকে ফিরে বললেন, “রাত-বিরাতে তোমরা দোকান থেকে আসবা, চাবি তোমাদের দিলাম—তোমাদের কাছেই থাক।” চাবি দিয়ে জাহানারা চলে গেলেন। মিলি দরজা বন্ধ করে দিলো। কিন্তু সেই দরজার ভেতরে ছিল এক স্তব্ধতা, এক আত্মসম্মান। সে জানে, চাবি হারানোটা শুধু ধাতব বস্তু নয়—এটা ছিল তার নিরাপত্তা, তার স্বাধীনতা, তার মর্যাদার প্রতীক।
oplus_32
সেলিম অফিস থেকে ফিরে এসে বলল, “মিলি, আমার ব্যাগটা দাও।”
মিলি জিজ্ঞেস করল, “কেন, কী হলো?”
সেলিম বলল, “আরে, আমাকে অফিসের কাজে চিটাগাং যেতে হবে। এখনই বের হতে হবে।”
মিলি হেসে বলল, “ঠিক আছে বসো, আমি সব গুছিয়ে দিচ্ছি।” সে ব্যাগ, শার্ট-প্যান্ট, দরকারি জিনিসপত্র গুছিয়ে স্বামীর হাতে তুলে দিলো। সেলিম বলল, “ঠিক আছে মিলি, আমি আর দেরি করবো না। বের হচ্ছি। তুমি ভালোভাবে থেকো।” মিলি স্বামীর দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি এদিক নিয়ে চিন্তা করো না। তুমি তোমার দিকে খেয়াল রেখো।” সেলিম দরজা খুলে বেরিয়ে গেল। মিলি চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইলো, তার চোখে ছিল একরাশ চিন্তা, কিন্তু মুখে ছিল শান্তির ছায়া।
রাত একটার সময়। মিলি ছেলে সিফাত আর মেয়ে নেহাকে নিয়ে শুয়ে পড়েছে। হঠাৎ মিলি অস্থির হয়ে ওঠে। তার বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, দম বন্ধ হয়ে আসছে।
সিফাত ভয় পেয়ে জিজ্ঞেস করে, “মা, তুমি এমন করছ কেন?”
মিলি কষ্টে বলল, “কিছু না বাবা, আমার ভালো লাগছে না।”
সিফাত বলল, “মা, বাবাকে ফোন দিই?”
মিলি মাথা নাড়ে, “না বাবা, তোমার বাবাকে ফোন দিও না। এই কথা জানলে সে অস্থির হয়ে পড়বে।”
তার কণ্ঠে ছিল ব্যথা, কিন্তু মনের মধ্যে ছিল স্বামীর চিন্তা। “বাবা, আমার খুব খারাপ লাগছে। আমি ডাক্তারের কাছে যাব,” বলল মিলি।
সিফাত উঠে বলে, “আচ্ছা, আমি দেখি গেটটা খোলা আছে কিনা।” সে গেটের কাছে যায়, দেখে তালা মারা। ফিরে এসে বলে, “মা, গেট বন্ধ।” মিলি ধীরে শুয়ে পড়ে। সিফাত বলে, “মা, আমি পাশের ফ্ল্যাট থেকে গেটের চাবি নিয়ে আসি।” মিলি চোখ বন্ধ করে বলল, “না বাবা, সেই চাবি তো আমার কাছ থেকে নিয়ে পাশের ফ্ল্যাটে দেওয়া হয়েছে। আমি সেই চাবির জন্য কাউকে ডাকতে চাই না।” তার কণ্ঠে ছিল না কোনো অভিমান, ছিল একরাশ আত্মমর্যাদা আর শরীরে ছিল অসহায়তা।
মিলি এক দৃষ্টিতে ছেলে-মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইল। ধীরে তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে দিলো—মায়া, ভালোবাসা, আর শেষ বিদায়ের ছোঁয়া। মিলি শুয়ে চোখ বন্ধ করে ফিসফিস করে বলে, “হে আল্লাহ, তুমি আমার ছেলেমেয়েদের ভালো রেখো।” এরপর সে নিঃশব্দ হয়ে যায়। সিফাত চমকে ওঠে। “মা?” সে ডাকে। “মা কথা বলো… মা?” কোনো সাড়া নেই। সে মাকে নাড়িয়ে দেখে—মা নড়ছে না, কথা বলছে না। ভয়ে, কান্নায়, অস্থিরতায় সে বাবাকে ফোন করে, “বাবা, মা কথা বলছে না!”
সেলিম সেই রাতেই গাড়িতে উঠে পড়ে। ছুটে আসে বাসায়। দরজা খুলেই স্তব্ধ হয়ে যায়! মিলি নিথর! সেলিম বুঝে যায়—মিলি আর নেই। সে ভেঙে পড়ে, কান্নায় বুক ভাসায়। চারপাশে লোকজন জড়ো হয়, কেউ কিছু বলতে পারে না। শুধু একটাই প্রশ্ন মনে—একটা চাবি, একটা তালা, একটা রাত… এত বড় ক্ষতি?
লোকজন মিলির মৃত্যুর খবর শুনে বাসায় ভিড় করে। কান্না, স্তব্ধতা, শোক—সব মিলিয়ে এক বিষণ্ন পরিবেশ। জাহানারা যখন বাসায় আসেন, সেলিম তার দিকে তাকিয়ে বলে, “দেখেন, আপনি ভালো করে দেখেন। আমার স্ত্রী যখন অসুস্থ বোধ করছিল, তখন সে ছেলেকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যেতে চেয়েছিল। কিন্তু গেট তালা মারা ছিল। তার কাছে চাবি ছিল না। ছেলে চাবি আনতে চেয়েছিল, কিন্তু মিলি না করে দিয়েছে—কারণ সেই চাবি আপনি তার কাছ থেকে নিয়ে অন্যকে দিয়েছেন।”
সেলিমের কণ্ঠে ছিল না কোনো চিৎকার, ছিল একরাশ ব্যথা আর নীরব অভিযোগ। “আপনার সেই সিদ্ধান্তে সে খুব কষ্ট পেয়েছে। সে কাউকে ডাকতে চায়নি, কাউকে বিরক্ত করতে চায়নি। সে চলে গেল।” জাহানারার মুখে কোনো শব্দ নেই। তার মুখে ছিল না কোনো জবাব, শুধু একধরনের শূন্যতা। যেন বোধশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
সেলিম স্তব্ধ! ভাবে “আমার এইটুকু ছেলেমেয়ে নিয়ে আমি কীভাবে চলবো? মা ছাড়া তাদের মানুষ করবো কীভাবে?” সে মাথা নিচু করে বলে, “যাক, আল্লাহ ভরসা। তিনিই ভালো জানেন।”

 

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *